image

সন্তানের শিক্ষা ভাবনা:- মা বাবার করণীয় প্রবেশিকা

একাডেমিক কর্তা ব্যক্তিরা এবিষয়ে একমত যে, বর্তমান সময়ের অন্যতম কষ্টসাধ্য কাজ হচ্ছে সন্তানকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলা। বলা বাহুল্য, সন্তানের মা বাবা যখন মুসলিম হয় তখন এটা রীতিমতো চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে আজকের পৃথিবীতে। কেননা মডার্নিটির এই যুগে সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে নীতি নৈতিকতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা ওঠে গিয়েছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৩০ বছর আগেও সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সমাজের সহযোগিতা ছিল অন্যতম উপাদান। অথচ আজ পরিবারের সদস্যরা পর্যন্ত সন্তানকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। নৈতিক অবক্ষয়ের পর এখন সরকারি কারিকুলামে যুক্ত হচ্ছে ঈমান বিধ্বংসী বিভিন্ন উপকরণ। তাই একজন সচেতন মুসলিম হিসেবে সকল মা বাবার অন্য যেকোনো সময় থেকে সন্তান লালন পালনে অধিক মনোযোগী হতে হবে। কারণ, বস্তুবাদি দুনিয়ার কাছে ভবিষ্যত সন্তানের কোন ভ্যালু না থাকলেও ইসলামের পক্ষ থেকে রয়েছে মা বাবার প্রতি সন্তানের অনেকগুলো হক- যা তাদের আদায় করতে হবে। অন্যথায় আখিরাতে কঠিন পাকড়াও অপেক্ষমান। মা'আযাল্লাহ। একইসাথে মৃত্যুর পর একজন মানুষের জন্য উপকারে আসতে পারে এমন তিনটি বিষয়ের একটি হচ্ছে নেককার সন্তান। যারা মাতা পিতার মৃত্যুর পর তাদের জন্য অনবরত দোয়া করতে থাকবে। কবরে নেকি পাঠাবে। তাই একজন মুসলিমের জন্য এব্যাপারে কোন ধরনের অবহেলা করা উচিত নয়। আল্লাহ আমাদের সর্বোত্তম মা বাবা হবার তাওফিক দান করুন। আমিন।

অনেকদিন যাবত কাছের মানুষদের জন্য 'সন্তানের শিক্ষা ভাবনা' নিয়ে কিছু লিখতে চাচ্ছিলাম। অনেকেই এবিষয়ে জিজ্ঞেস করে থাকেন। তাই ভাবলাম একটা লেখা থাকলে সবার গাইডলাইন হিসেবে সুবিধা হয়। আল্লাহ সর্বোত্তম তাওফিক দাতা। আমীন।
১. সন্তানের শিক্ষা ও মা–বাবার দায়িত্ববোধ আমরা প্রথমে সংক্ষেপে সন্তান প্রতিপালনে মা বাবার দায়িত্ব এবং অবহেলার পরিণতি সম্পর্কে কিছু নস দেখে নিব। ইসলামে সন্তান কেবল পারিবারিক সম্পর্কের বন্ধন নয়; বরং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অর্পিত একটি আমানত। আল্লাহ বলেন— يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قُوا أَنفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا “হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে ও তোমাদের পরিবার-পরিজনকে আগুন থেকে রক্ষা করো।” (সূরা আত-তাহরীম: ৬) এই আয়াত স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, সন্তানকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব মা–বাবার ওপর বর্তায়। অর্থাৎ, শুধু খাদ্য, পোশাক ও পড়াশোনার ব্যবস্থা করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং ঈমান, আমল ও চরিত্র গঠনের দায়িত্বও তাদের কাঁধে ন্যস্ত। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন— كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ “তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল, এবং প্রত্যেককে তার অধীনস্তদের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।” (সহীহ বুখারি : ২৫৫৪) সন্তানের শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের ক্ষেত্রে এই জবাবদিহি সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। مَا نَحَلَ وَالِدٌ وَلَدَهُ نِحْلًا أَفْضَلَ مِنْ أَدَبٍ حَسَنٍ “পিতা তার সন্তানকে উত্তম আদবের চেয়ে উত্তম কিছু উপহার দিতে পারে না।” (তিরমিযি : ১৯৫২) مُرُوا أَوْلَادَكُمْ بِالصَّلَاةِ لِسَبْع “তোমরা তোমাদের সন্তানদের সাত বছর বয়স থেকে নামাজের নির্দেশ দাও।” (আবু দাউদ : ৪৯৫) উল্লেখিত নসগুলো থেকে বিষয়টি প্রতিয়মান যে আমার সন্তান আমি যেভাবে খুশি মানুষ করবো সেই সুযোগ একজন মুসলিমের জন্য নেই। আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালনের পর ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার যা মন চায় পড়ানো যাবে। কিন্তু দীনি শিক্ষাটা শিশু মননে ছোট থাকতেই প্রোথিত করতে হবে। সুতরাং সন্তানের শিক্ষা ও চরিত্র গঠনে অবহেলা করলে তার পরিণতি শুধু দুনিয়াতেই নয়, আখিরাতেও ভয়াবহ। আজ আমরা সমাজে যে নৈতিক অবক্ষয়, অবাধ্যতা, সহিংসতা ও ধর্মবিমুখতা দেখতে পাচ্ছি—তার পেছনে বড় কারণ হলো পরিবারিক তত্ত্বাবধানের অভাব। সন্তান যদি নামাজবিমুখ, দ্বীনবিমুখ কিংবা চরিত্রহীন হয়ে ওঠে, তবে এর গুনাহের অংশীদার মা–বাবাও হবেন—এ কথা ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
২. শিক্ষা বলতে ইসলামের দৃষ্টিতে কী বোঝায় ইসলাম শিক্ষা বলতে কেবল পুঁথিগত জ্ঞান বা ডিগ্রিকে বোঝায় না। বরং শিক্ষা একটি সমন্বিত প্রক্রিয়া, যার মূল স্তম্ভ তিনটি— ঈমানী শিক্ষা – আল্লাহ, রাসূল ﷺ, আখিরাতের বিশ্বাস নৈতিক শিক্ষা – সত্যবাদিতা, লজ্জাশীলতা, আমানতদারি, শিষ্টাচার জাগতিক শিক্ষা – বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পেশাগত দক্ষতা এই তিনটির যেকোনো একটি উপেক্ষিত হলে মানুষ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ঈমানহীন শুধু জাগতিক জ্ঞান মানুষকে অহংকারী করে তোলে, আর জাগতিক জ্ঞানহীন শুধু দীনি শিক্ষা মানুষকে দুর্বল করে তোলে। যেমনটা আমরা বর্তমান প্রচলিত কওমী মাদরাসা সিলেবাসে দেখতে পাই। সময়ের প্রয়োজনে হওয়া বিভক্তি -শিক্ষা ব্যবস্থা দীন দুনিয়ায় সেপারেশন- প্রয়োজন ফুঁড়িয়ে গেলেও দাঁত কামড়ে ধরে রাখা, যুগ যুগ ধরে বহাল রাখার মাশুল এখন আমাদের দিতে হচ্ছে। একসময় যেটা ছিল প্রয়োজন এখন সেটাই হয়ে গেছে নিয়তি। যেন এই সিলেবাস ওহী প্রাপ্ত। কোন সংস্কার এখানে করা যায় না। বলা ভালো অপরাধ।
৩. বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় সন্তান লালন-পালন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। চারপাশে অনৈতিকতা, অশালীনতা ও ভোগবাদী সংস্কৃতির ছড়াছড়ি। গণমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া ও শিক্ষাব্যবস্থার কিছু উপকরণ শিশু-কিশোরদের চিন্তা ও বিশ্বাসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন প্রেক্ষাপটে শুধু স্কুলের ওপর দায় চাপিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া কিছুই নয়। তাই পরিবারকেই হতে হবে সন্তানের প্রথম ও প্রধান শিক্ষালয়। পরিবারে মা হচ্ছেন সন্তানের প্রথম শিক্ষক। বাচ্চারা বাবাকে অনুকরণ করতে চায়। আর মার থেকে প্রেক্টিক্যালি শিক্ষা পায়। সন্তানের জন্য একজন মায়ের ভূমিকা পৃথিবীর কোন স্কুল বা অন্য কোন ব্যক্তি পালন করতে পারবে না। এখানে চাকরিজীবী মায়েরা অনেক সময় সন্তানের এই অধিকার কেড়ে নেন। অবশ্য, সদিচ্ছা থাকলে চাকরি বাকরি সামলিয়েও বাচ্চার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দেয়া না গেলেও কিছুটা ঘাটতি কাটিয়ে উঠা যায়। আর কিছু পরিবারে মায়েদের পরিবেশ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে জব করা লাগে। এই বাস্তবতা অস্বীকার করা যাবে না। তাই আমাদের পরিস্থিতির আলোকে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যদি মা সর্বদা বাসায় থাকেন তাহলে বাচ্চারা প্লে নার্সারি কেজি সহ আরোও যা হাবিজাবি আছে সেগুলো মায়ের কাছে শিখবে। এটাই সবচেয়ে উত্তম। এরপর প্রথম শ্রেণী থেকে নিকটবর্তী মুটামুটি একটি ভালো স্কুলে ভর্তি করিয়ে মা সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করবেন। আর যদি মা চাকরিজীবী হোন তাহলে ভালো মানের নীতি নৈতিকতার উপর গড়ে উঠা প্রতিষ্ঠানে প্লে নার্সারি থেকেই ভর্তি করা ভালো। যদিও স্কুল একটু দূরে হোক। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে কোনভাবেই বাচ্চাকে আবাসিক রাখা যাবে না। মাধ্যমিক স্তরের (১০ম) শিক্ষা সমাপনীর আগ পর্যন্ত কোনভাবেই একটি বাচ্চাকে আবাসিক রাখা নিরাপদ না। চাই মাদ্রাসা হোক বা স্কুল। কোত্থাও না। আমি নিজের জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, আশপাশ পর্যবেক্ষণ করেই মতামত দিলাম।
৪. ধর্মীয় শিক্ষা ও জাগতিক শিক্ষার সমন্বয় সমাধান একটাই—সমন্বয়। সন্তানকে আধুনিক জ্ঞান দিতে হবে, তবে ইসলামী আকিদা ও মূল্যবোধের ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে। জাগতিক শিক্ষার পাশাপাশি কুরআন শিক্ষা, ক্যারিয়ারের পাশাপাশি নামাজ ও আমলের অভ্যাস, প্রযুক্তির ব্যবহার- কিন্তু নৈতিক নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে। রাসূলুল্লাহ ﷺ দোয়া করতেন- اللَّهُمَّ انْفَعْنَا بِمَا عَلَّمْتَنَا “হে আল্লাহ! আপনি যা আমাদের শিখিয়েছেন তা দ্বারা আমাদের উপকৃত করুন।” অর্থাৎ উপকারী জ্ঞানই কাম্য- যে জ্ঞান মানুষকে আল্লাহর নিকটবর্তী করে। প্রতিবন্ধকতা - নববী যুগ থেকে দীর্ঘ ১৪ শত বছরের মুসলিম বিশ্বের শিক্ষা ব্যবস্থা ঘেঁটে ঘেঁটে আমরা দেখতে পেলাম বর্তমান সময়ের মত এতটা নাজুক অবস্থায় মুসলিমরা কখনও ছিল না। ঔপনিবেশিক শাসনের পূর্বেও মুসলিম বিশ্বের কোথাও দীন ও দুনিয়া নামের আলাদা কোন শিক্ষাব্যবস্থা ছিল না। মুসলিম খলিফা ও সুলতানদের তত্বাবধানে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো একসাথে দীন ও দুনিয়ার যাবতীয় শিক্ষা মুসলিম বাচ্চাদের প্রদান করতো। ফলে আমরা দেখতে পাই একই ধাঁচের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যেভাবে ইমাম বুখারী, ইমাম কুরতুবি, ইবনু আব্দিল বার (রহিমাহুমুল্লাহ) দের মত জগদ্বিখ্যাত ইলমী অঙ্গনের ইমাম বের হয়ে এসেছেন ঠিক একইসাথে সেসব প্রতিষ্ঠানই তৈরি করেছে ইবনু খালদুনের মত সমাজবিজ্ঞানী, ইবনু সিনার মত চিকিৎসা বিজ্ঞানী এবং ইবনুল হাইসামের মতো জগদ্বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ ও অর্থনীতিবিদ। এগুলো এখন শুধুই ইতিহাসের ধূসর অধ্যায়। যা পড়ার পর আমরা শুধু নিরবে কান্না করি। সেই কান্নার আওয়াজ আমাদের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায় না। এক বোবা কান্না। যাই হোক, মুসলিমরা হতাশ হতে পারে না। কলোনিয়াল যুগে দীনি শিক্ষা এবং জাগতিক শিক্ষার যে পৃথকীকরণ করা হয়েছে তা আমাদের ভেঙে ফেলতে হবে। একাডেমিকলি কতটা সফল হবো জানি না। কিন্তু আমাদের কাজটা করতে হবে নিজ উদ্যোগে। ঘরে ঘরে। বর্তমান প্রবন্ধে শুধুমাত্র আজকে এই সমন্বয়ের একটি পথ নিয়ে আলোচনা করব। ভবিষ্যতে এবিষয়ে টেক্সটবুক নির্দেশনার আশা রাখি। অপেক্ষায় থাকি অভিজ্ঞ কেউ আমাদের জন্য এই খিদমাত টুকু আঞ্জাম দিবেন।
৫. দীন ও দুনিয়াবি শিক্ষার সমন্বয় রূপরেখা বর্তমান বাংলাদেশের বাস্তবতায় এর ৩ টি পদ্ধতি হতে পারে। ক. যেকোন স্কুলে জাগতিক শিক্ষায় ভর্তি করে বাসায় হোম স্কুলিং সিষ্টেমে দীনের মৌলিক বিষয়গুলো শেখানো। খ. যেকোন মাদ্রাসায় ভর্তি করে বাসায় হোম স্কুলিং সিষ্টেমে জাগতিক বিষয়গুলো শেখানো। গ. নীতি নৈতিকতা ধারণকৃত আধুনিক ইসলামিক স্কুলে ভর্তি করে দীন ও দুনিয়া- উভয় শিক্ষার সমন্বিত উদ্যোগে এগিয়ে নেয়া। আমার পরামর্শ 'গ' নাম্বার পদ্ধতি অনুসরণ করা। এটাই সকল পরিবারের জন্য আদর্শ পদ্ধতি। উপরের ২ টা সবাই পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ করতে পারবেন না। কিছু সমস্যা আছে। অবশ্য এখানে একটা বিষয় লক্ষণীয়, কোন মা বাবা যদি শুরু থেকেই চান তার সন্তানকে একজন দক্ষ মুহাক্কিক আলিম হিসেবে গড়ে তুলবেন। তাহলে তিনি 'খ' নাম্বার পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে সেই মাদ্রাসা বর্তমান পৃথিবীতে চলতে গেলে যে বিষয়গুলো একজন মানুষের জন্য অপরিহার্য সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ শেখাতে পারছে কিনা তা যাচাই করা। আবার কোন মা বাবা যদি শুরুতেই সন্তানকে ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার বা জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চান। তাহলে 'ক' অপশনটি সবচেয়ে উপকারী। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের দেশের মা বাবারা 'ক' অপশনটি নিলে দীনের মৌলিক শিক্ষা সন্তানকে তারা আর দিতে পারেন না। অথচ এটা তাদের উপর ওয়াজিব। সন্তানকে আলিম বানানো ওয়াজিব না। কিন্তু ফরজ ইলম শিক্ষা দেয়া ওয়াজিব। তাই এসব মা বাবার জন্য 'গ' নাম্বার অপশন সবচেয়ে কার্যকরী। যেহেতু এখন দেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে এধরনের স্কুল গড়ে উঠেছে আলহামদুলিল্লাহ।

গুরুত্বপূর্ণ কিছু নির্দেশনা -

ইসলামিক স্কুলগুলো যেভাবে মুসলিমদের উপকারে কাজে দিচ্ছে। তার পাশাপাশি এসব স্কুলের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে যেগুলো এখনও পর্যন্ত কাটিয়ে উঠা যায়নি। যেমন,

১. কোন প্রতিষ্ঠানের সিলেবাসে বাচ্চাদের আকিদা তাওহীদ শেখানো হয় না গুরুত্ব দিয়ে। শুধুমাত্র আল্লাহ রাসূল সম্পর্কে মৌলিক কিছু বিষয়, কিছু মাসনুন দোয়া, প্রয়োজনীয় মাসআলা মাসায়েলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এসব অবশ্যই দরকার। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পূর্ণাঙ্গ তাওহীদ শিক্ষা। একজন মুমিনের সফলতা ব্যর্থতা যার উপর নির্ভরশীল। পরকালীন মুক্তির চাবিকাঠি তাওহীদ প্রায় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে উপেক্ষিত। এমনকি মাদরাসা গুলোতেও। তাই মা বাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে এখানে। বাসায় নিয়মিত তাওহীদ শেখাতে হবে বাচ্চাদের। আরবে একদম প্লে থেকেই বাচ্চাদের তাওহীদ শেখানো হয় একাডেমিক সিলেবাসে। দুর্ভাগ্য আমাদের আমরা তাওহীদ অধ্যায় সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে পারিনি।
২. অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই অনেকটা বিজনেস ঘেঁষা। এগুলো পূঁজিবাদি মানসিকতা। ভাই ব্যবসা করেন না করছি না। কিন্তু খরচাপাতি একটু রয়ে সয়ে নেয়া যায় তো। যদি এলিট আর মধ্যবিত্তের বাচ্চারাই এসব প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ পায় তাহলে নিম্নবিত্ত, নিম্নমধ্যবিত্ত ফ্যামিলির কথা কারা চিন্তা করবে ? এখানে এই প্রতিষ্ঠান গুলোর সীমাবদ্ধতা আছে। আশাকরি সামনে এটা কেটে যাবে।
৩. মাঠপর্যায়ে খোঁজখবর না নিয়ে কোন প্রতিষ্ঠানেই বাচ্চা দেয়া যাবে না। নিজে সরাসরি প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তাদের পঠনপাঠন পদ্ধতি, সিলেবাস, পরিবেশ সবকিছু দেখে তারপর সিদ্ধান্ত নিবেন।
৪. মা বাবা জেনারেল ব্যাকগ্রাউন্ড হলে একজন যুগ সচেতন আলিম কে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠান দেখতে যাবেন। আর মা বাবা মাদরাসা ব্যাকগ্রাউন্ড হলে একজন ভালো জেনারেল শিক্ষিত কাউকে সাথে নিয়ে প্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করতে যাবেন। আপাতত এগুলো মাথায় আসছে। পরবর্তীতে আরোও কিছু মনে হলে এড করে দিব ইনশাআল্লাহ।
শেষ কথা
সন্তান কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; বরং ভবিষ্যৎ সমাজ ও উম্মাহর প্রতিনিধি। আজ একজন মা–বাবা সন্তানের যে ভিত্তি রচনা করবেন, আগামী প্রজন্ম ঠিক তেমনই রূপ নেবে। তাই সন্তানের শিক্ষা ভাবনায় অবহেলা নয়—বরং সচেতনতা, দায়িত্ববোধ ও আল্লাহভীতি অপরিহার্য। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নেককার সন্তান দান করুন এবং উত্তম মা–বাবা হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
নিবেদক
রাশিদুল ইসলাম
তাকমিল, মারকাজুল ফিকরিল ইসলামি বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা। শিক্ষার্থী, আত-তাখাসসুল ফি উলুমিল হাদিস, কুল্লিয়াতুশ শরিয়াহ, ইলমওয়েব।
logo

সহযোগিতা

ইমেইল: annahdaislamicinstitute@gmail.com

+8801350055192

অন্যান্য

ব্রহ্ম

নিবন্ধন করবেন যেভাবে